মহাকবি আল্লামা ইকবালের উক্তি । আলোচিত ও জনপ্রিয় বাণী সমাবেশ
মহাকবি আল্লামা ইকবাল পাঞ্জাবের শিয়ালকোট এ ১৮৭৭ সালের ৯ নভেম্বর জন্মগ্রহন করেন । তিনি জাতিগত কাশ্মীর বর্তমান পাকিস্তান এর সন্তান। তাঁর পুরো নাম আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল। তিনি ভারতবর্ষের বিখ্যাত মহাকবি, পাশাপাশি দার্শনিক এবং রাজনীতবীদও ছিলেন। উনার বাবা শেখ নুর মুহাম্মদ ছিলেনে পেশায় একজন দর্জি। শেখ নুর মোহাম্মদ কেবল পেশাগত দিক দিয়ে নয়, চিন্তাধারা এবং জীবন যাপনে ছিলেন ইসলামের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত-প্রাণ। কবিতা সমূহের মধ্যে ফার্সি ও উর্দু কবিতাগুলো আধুনিক যুগে শ্রেষ্ঠ কবিতা হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল ধর্মীয় ও ইসলামের রাজনৈতিক দর্শনের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। তাঁর একটি বিশেষ গুণ বা চিন্তা ছিলো, যা হলো তিনি ভারতকে মুসলমানদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে গঠন করা করা। উনার একই চিন্তা পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টিতে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। আল্লামা শব্দের অর্থ হচ্ছে শিক্ষাবিদ। আর তিনি তাঁর শিক্ষাকে সবটাই কাজে লাগিয়েছেন। যে কারনে তিনি আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল নামে অধিক পরিচিত। তিনি তাঁর শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সারা বিশ্বে অনেক নাম অর্জন করেছেন। তিনি তাঁর শিক্ষার জন্য ইরানেও সমধিক পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ইরাকে ইকবাল ই-লাহোরী নামে পরিচিত। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে ছিলেন খুবই ঠান্ডা মাথার মানুষ । তাছাড়া তিনি যেকোনো পরিস্তিতি খুব সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারতেন। তিনি বিভিন্ন সময় ও পরিস্থিতিতে তিনবার বিয়ে করেছিলেন। ১৮৯৫ সালে তিনি তাঁর জীবনের প্রথম বিয়ে করেন। তিনি ১৯৩৮ সালের ২১শে এপ্রিল মৃত্যু বরণ করেন। আত্মপ্রকাশের আজকের আয়োজনে থাকছে মহাকবি আল্লামা ইকবালের উক্তি ও বানী । যা সারা বিশ্বে অনেক সারা ফেলেছে।
আল্লামা ইকবালের উক্তি ও বাণী সমাবেশ
সময়ের সাথে সাথে মহাকবি আল্লামা ইকবালের খ্যাতি এবং যশ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি হয়ে উঠেছেন মহাকবি। আল্লামা ইকবালের উক্তি ও বাণী, যা বিশ্বব্যাপী মানুষকে আলোড়িত করেছে, তা নিম্নরুপ।
রচনার ভাগসমূহ
আল্লামা ইকবালের জীবনবোধ ও উক্তি
আল্লামা ইকবালের চমৎকার জীবনবোধ উঠে এসেছে তাঁর প্রতি লেখায়। সিদ্ধহস্ত হাতে তা সুনিপুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। জীবন নিয়ে আল্লাহ ইকবালের উক্তি ও বাণী নিম্ন্রুপ।
“দৃঢ় বিশ্বাস, অনবরত প্রচেষ্টা এবং বিশ্বজয়ী প্রেম-জীবনযুদ্ধ এই হলো মানুষের হাতিয়ার।”
“শিল্প বিজ্ঞান সম্পর্কে ইকবালের ধ্যান ধারণা স্বয়ংসম্পূর্ণ। তিনি বলেন, ‘নীতিবোধ ও সুষ্ঠু জীবনবোধ ছাড়া শিল্প বিজ্ঞান সব ব্যর্থ। সত্যের মূর্ত প্রতীক প্রতিচ্ছবি হল শিল্প বিজ্ঞান।”

“মানুষ সজাগ সচেতন নয়, কিছুক্ষন পর কি ঘটবে তার জীবনে তা তার জানা নেই, অথচ হাজার বছর বেঁচে থাকার উপায় উপকরণ যোগাড়ে ব্যস্ত।“
‘আল্লাহর একাত্ব, সার্বভৌমত্ব ও মানব ভ্রাতৃত্বই হল ইসলামী সমাজের মূল বিষয়। সমাজ ছাড়া ব্যক্তির চিহ্ণ নেই। সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থা ব্যক্তিকে সুসংহত করে তোলে। সমাজ জীবন মানুষের পক্ষে অপরিহার্য। বুদ্ধি, আবেগ ও উজ্জ্বল্য প্রশংসার। কিন্তু কেবল মাত্র বুদ্ধিমত্তা যথাযথ নয়। প্রেম ও নীতির যাদস্পর্শ ছাড়া বুদ্ধি নিরর্থক।”
জীবন ও জীবনবোধ নিয়ে অন্যান্য জ্ঞানীগুণীদের বাণীগুলো নিম্নরুপ লিংকে।
- শেখ সাদীর জীবনবোধ ও উপদেশ বাণীসমূহ
- জীবন নিয়ে রুমির উক্তি ও বাণী
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনবোধ
দেশ ও জাতি নিয়ে আল্লামা ইকবালের বাণী
আল্লামা ইকবাল বরাবরই তাঁর দেশ ও জাতি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তাঁর সেই চিন্তা উঠে এসেছে অনেক রচনাতেই। আল্লামা ইকবালের জাতিবোধ উক্তিগুলো নিম্নরুপ।
“ব্যক্তি জন্ম নেয় এক মুষ্টি ধুলি থেকে সরল দীন, ব্যক্তির অন্তর থেকে জন্ম নেয় এক জাতি।”
“যেই শিক্ষা গ্রহন করে যেই শিক্ষার গুণে গুনান্নিত হয়ে ছেলে মেয়ে সাজে, মেয়ে ছেলে সাজতে পছন্দ করে,
ঐ শিক্ষাকে জ্ঞানীরা শিক্ষা না জাতীর জন্য বিষ বলে গন্য করেছেন।”

“রাজনীতির মূল রয়েছে মানুষের আত্মিক জীবনের গভীরে।”
“আমার দৃষ্টিতে দেশ প্রেম এবং দেশ পূজা এক কথা নয়।”
“রাষ্ট্র ইসলামের মতে, একটি মানব প্রতিষ্ঠানে আধ্যাত্মিকতা উপলব্ধি করার জন্য কেবল একটি উৎসাহ। তবে এই অর্থে সমস্ত রাষ্ট্র নিছক আধিপত্যের ভিত্তিতে নয় এবং আদর্শ নীতিগুলির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নয়।”
জাতি ও দেশ নিয়ে সুচিন্তিত সুনাগরিকদের অন্যান্য উক্তিগুলো পড়ে নিতে পারেন নিম্ন্রুপ লিংকগুলোতে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের বজ্র বাণীসমূহ
- মার্টিন লুথার কিং এর উক্তি ও বাণীসমূহ
- চাণক্যের বাণী। সর্বক্ষেত্রে কাজ করা তাঁর নীতিগুলো
সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ ও ধর্ম নিয়ে আল্লামা ইকবালের উক্তি
ধর্মভীরু আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছেন। তাঁর ভাবনায়, চিন্তায় খোদাভীতি বরাবরই লক্ষ্যণীয়। তাঁর অনেক রচনায় ধর্ম ও সৃষ্টিকর্তার কথা উঠে এসেছে। ধর্ম ও সৃষ্টকর্তাকে নিয়ে আল্লামা ইকবালের উক্তিগুলো নিম্নরুপ।

“হে খোদা আমার অন্তরের একমাত্র আকাংখা ছড়িয়ে দাও আমার দৃষ্টির আলো সবার উপর।”
“ধর্ম কোনো মতবাদ নয়, কোনো পৌরহিত্য নয়, কোনো অনুষ্ঠান নয়, বরং ধর্ম এমন একটি জীবনবিধান যা মানুষকে বিজ্ঞানের যুগেও তার দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত করে এবং তার প্রতীতিকে দৃঢ় সক্ষম করে দেয়, যার ফলে সে সত্যোপলব্ধিতে সক্ষম হয়ে উঠে।”
“ধর্মের উদ্দেশ্য বিভিন্ন বিশেষায়িত নারীর অভিজ্ঞতার আসল তাৎপর্য অনুধাবন করা।”
“ঈমান, চিন্তা ও আবিষ্কার সুন্দর জীবনের তিনটি নক্ষত্র।”

“সত্ত্বারে কর সাধনায় তব উন্নত এতখানি;
খোদা যেন খোদ মজবুর হয়ে,
শুধায় তোমারে- বল নির্ভয়ে
কি দেব তোমায়? পেতে চাও তুমি কেমন জীবন।“
“আরব আমার ভারত আমার চীন গো আমার নহে গো পর বিশ্ব জোড়া মুসলিম আমি সারাটি জাহান বেঁধেছি ঘর।”
~ জাতপাত, বৈষম্য নিয়ে মহাকবি ইকবাল উপরোক্ত উক্তিটি করেছেন।
“খুদী এইরূপ উন্নত কর যে, তোমার প্রতিটি ভাগ্যলিপি লিখার পূর্বে খোদা যেন শুধান, কি তোমরা অভিপ্রায়’।
সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে অন্যান্য সুফি সাধকদের উক্তি ও বাণী নিম্নরুপ লিংকে,
মহাকবি আল্লামা ইকবাল তাঁর জ্ঞান ও দর্শন দিয়ে যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন, তা মহাবিশ্বে অনন্তকাল জ্বলজ্বল করে জ্বলবে। আল্লামা ইকবালের উক্তি ও বাণীএবং বিভিন্ন রচনার মাধ্যমে যে আসনে বসেছেন, তা তাঁর প্রাপ্য সম্মান। আত্মপ্রকাশের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
2 Comments
[…] […]
[…] […]